এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে
-জীবনানন্দ দাশ


ধন-ধান্য পুষ্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা,
তাহার মাঝেই আছে দেশ এক, সকল দেশের সেরা।
ও সে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে যে, স্মৃতি দিয়ে ঘেরা।
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি।


ক) বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দ দাশকে কী বলে আখ্যায়িত করেন?
খ) ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে সবচেয়ে করুণ- বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন।
গ) ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতাটির যে দিকটি উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পৃক্ত তা আলোচনা কর।
ঘ) ‘কবি মাত্রই মা, মাতৃভূমি আর প্রকৃতির অকৃত্রিম বর্ণনা’- তোমার পঠিত ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ এবং উদ্দীপকের আলোকে বর্ণনা কর।


উত্তর ক :
বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দ দাশকে ‘নির্জনতম কবি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।


উত্তর খ :
বাংলা সাহিত্যের ‘রূপসী বাংলার’ কবি বলে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ। বাংলার এক অকৃত্রিম রূপ-ঐশ্বর্য তিনি আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি আর অবারিত সম্ভাবনাময় দেশ বাংলাদেশ। প্রকৃতি আর মানুষ এখানে মিলেমিশে একাকার। শত পরিবর্তন, দুঃখ-কষ্টের মাঝেও বাংলার অনন্ত অক্ষত মূর্তি সদা জাগরুক। কবির চোখে সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর, মমতারসে সিক্ত সহানুভূতিতে আর্দ্র ও বিষণ্ণ দেশ বাংলাদেশ। কবি ‘সুন্দর করুন’ বলতে বাংলার অমলিন ও অবিচলিত সৌন্দর্যকে বুঝিয়েছেন। দেশের প্রতি গভীর মমত্ববোধ এখানে প্রকাশিত হয়েছে।


উত্তর গ :
‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ এবং উদ্দীপকের মধ্যে আমরা স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা আর মমত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ লক্ষ্য করি।


অসাধারণ সুন্দর আমাদের বাংলাদেশ। এই রূপসী বাংলারই কবি জীবনানন্দ দাশ। কবি এ দেশেকে দেবতার বিশেষ আশীর্বাদ বলে বিশ্বাস করেন। এই কবিতায় কবি বাংলার প্রভাতের সৌন্দর্য, নদী ও নারীর সৌন্দর্য, জলে পূর্ণ নদ-নদীর সৌন্দর্য তথা সমগ্র প্রকৃতির সৌন্দর্যকে আমাদের সামনে প্রকাশ করেছেন। কবির বিশ্বাস পৃথিবীর অন্য কোথাও এই সৌন্দর্য দেখা যাবে না, পাওয়া যাবে না শঙ্খমালা আর লক্ষ্মীপেঁচাকে। সন্ধ্যার বাতাসে সুদর্শন উড়ে যাওয়া কেবল এই বাংলাতেই সম্ভব।


উদ্দীপকে আমরা দেখি কবি প্রথমে প্রাণ প্রাচুর্যে ভরপুর পৃথিবীর বন্দনা করেছেন। কিন্তু পরক্ষণেই তিনি আমাদের সামনে সকল দেশের রানী তথা ঐশর্যমণ্ডিত করে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করেছেন। এই স্বপ্নপুরীর বর্ণনা দিতে গিয়ে কবি সবার উপরে স্থান দিয়েছেন এর সৌন্দর্যকে। মানুষের প্রেম প্রাচুর্যে ভরপুর এখানকার প্রাকৃতিক শোভা কবিকে করেছে গৌরবান্বিত।


আমাদের পঠিত ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ নামক কবিতায় কবি আমাদের জন্মভূমিকে ঈশ্বরের আশীর্বাদপুষ্ট হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। অন্যদিকে উদ্দীপকেও আমরা দেখি এই বাংলাকে কবি সকল দেশের রানী বলে সম্বোধন করেছেন।


উত্তর ঘ :
স্বদেশের প্রতি গুণমুগ্ধতা থেকেই কবিত্ব শক্তির জন্ম হয়। আমাদের পঠিত ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ আর উদ্দীপকে স্বদেশের প্রতি গভীর সম্পর্ক খুঁজে পাই। শৈল্পিক ভাষায় জীবনানন্দ দাশ আমাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে উপস্থাপন করেছেন।

ধন ধান্যে পুষ্প ভরা এই বাংলার চিত্র ফুটিয়ে তুলতে কবি এখানকার কর্ণফুলী, ধলেশ্বরী, পদ্মা আর জলাঙ্গীকে স্রোতস্বিনী রূপে উপস্থাপন করেছেন। শঙ্খচিল, লক্ষ্মীপেঁচা, সুদর্শন কিংবা শঙ্খমালাদেরকেও তিনি নিয়ে এসেছেন গভীর মমত্ববোধ থেকে।
উদ্দীপকে কৃষিভিত্তিক বাংলার ঐশ্বর্যমণ্ডিত সৌন্দর্য লীলাকীর্তন করেছেন কবি। স্বদেশ ও এর প্রতিটি বস্তুকে আপন ভাবেন বলেই কবি নির্দ্বিধায় অজস্র দেশের মধ্যে বাংলাকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। কল্পলোকের রাজ্য হিসেবে কবি আমাদের দেশকে উপস্থাপন করেছেন।


আমাদের কল্পনার সৌন্দর্যভূমি বাংলাদেশ। আর কবিদের চোখে সৌন্দর্য ধরা দেয় আনন্দের ফল্গুধারা হয়ে। কবিগণ তাদের পুরো সত্তা জুড়ে তাদের দেশ ও দেশের প্রকৃতিকে লালন করেন বলেই তারা শিল্পী। তাই আমরা বলতে পারি কবি মাত্রই মা, মাতৃভূমি আর প্রকৃতির অকৃত্রিম বর্ণনা।

 


Comments