একাত্তরের দিনগুলি

-জাহানারা ইমাম

সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

সেই রেল লাইনের ধারে মেঠো পথটার পাড়ে দাঁড়িয়ে

এক মধ্যবয়সী নারী এখনও রয়েছে হাত বাড়িয়ে

খোকা ফিরবে ঘরে ফিরবে, কবে ফিরবে নাকি ফিরবে না।

ক. জাহানারা ইমামের বড় ছেলের নাম কী?

খ. জাহানারা ইমামের ভেতরে কিসের আশা জেগে ওঠে?

গ. উদ্দীপকে ‘একাত্তরের দিনগুলি’ দিনপঞ্জির কোন আবহটি ফুটে উঠেছে? বর্ণনা কর।

ঘ. ‘একাত্তরের দিনগুলি’ দিনপঞ্জির আলোকে উদ্দীপকের গানটির বাস্তবতা নিরূপণ কর।

উত্তর (ক) : জাহানারা ইমামের বড় ছেলের নাম হল রুমী।

উত্তর (খ) : জাহানারা ইমামের ভেতরে স্বাধীনতা লাভের আশা জেগে ওঠে। ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানিরা রাতের আঁধারে এ দেশের নিরীহ বাঙালির ওপর অতর্কিত আক্রমণ করে। ফলে বাংলার দামাল ছেলেরা পরাধীনতার হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রথমে মুক্তিযোদ্ধারা বর্ডারঘেঁষা অঞ্চলগুলোতে আক্রমণ শুরু করলেও পরে ঢাকাতেও আক্রমণ শুরু করে। এ কারণে জাহানারা ইমামের ভেতরে স্বাধীনতা লাভের আশা জেগে ওঠে।

উত্তর (গ) : মুক্তিযুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া ছেলেটির ঘরে ফেরার প্রতীক্ষায় মা অপেক্ষমান, এই আবহটি উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে। ‘একাত্তরের দিনগুলি’ দিনপঞ্জিতে জাহানারা ইমাম ছেলের প্রতীক্ষায় পথ চেয়ে বসে আছেন। দেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তার ছেলে রুমী মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন। কিন্তু রুমী পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বন্দি হন।

রুমীকে পাকিস্তানি বাহিনীর হাত থেকে উদ্ধার করতে মার্সি পিটিশন বাদে সব রকমের চেষ্টা করা হয়। বন্দিদশা থেকে রুমী মুক্তি পেয়ে ঘরে ফিরবে এই আশায় লেখিকা অপেক্ষমান। উদ্দীপকের বক্তব্যেও দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধে যোগদানরত ছেলের প্রতীক্ষায় মা পথ চেয়ে বসে আছেন। ১৯৭১ সালে এ দেশ পাকিস্তানি বাহিনী আক্রমণ করলে দেশকে স্বাধীন করতে অনেকে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন। দেশ স্বাধীন হলে মুক্তিযোদ্ধাগণ মায়ের কোলে ফিরে আসেন।

এই প্রতীক্ষায় মধ্যবয়সী এক মা রেললাইনের পথের ধারে অপেক্ষা করছেন। যা জাহানারা ইমামের মধ্যেও লক্ষণীয়। তাই মুক্তিযুদ্ধে যোগদানরত ছেলে ফিরে আসবে এই আবহটি উদ্দীপক ও ‘একাত্তরের দিনগুলি’ দিনপঞ্জিতে ফুটে উঠেছে।

উত্তর (ঘ) : ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে দেশ স্বাধীন হলেও অনেক মুক্তিযোদ্ধা আর ঘরে ফিরে আসেননি। ১৯৭১ সালে বাঙালির জাতীয় জীবনে এক স্মরণীয় অধ্যায়। একাত্তরে পশ্চিম পাকিস্তানিরা এ দেশের নিরীহ জনতার ওপর এক নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়। রক্তের হোলিখেলায় পাকিস্তানি হায়েনারা মেতে ওঠে। তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে বাংলার দামাল ছেলেরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। জাহানারা ইমামের পুত্র রুমীও অন্যদের মতো দেশকে স্বাধীন করতে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।

দুর্ভাগ্যবশত রুমী পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বন্দি হন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ এ দেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হল এবং দীর্ঘ নয় মাস পর অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্বর এ দেশ স্বাধীনতা লাভ করে। বিজয়ের উল্লাসে মুক্তিযোদ্ধারা ঘরে ফিরতে থাকেন। উদ্দীপকে দেখা যায়, এক মধ্যবয়সী মা সন্তানের ফিরে আসার আপেক্ষায় রেললাইনের ধারে দাঁড়িয়ে আছেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে দেশ স্বাধীন হলেও অনেক মুক্তিযোদ্ধা এলেও অনেক মুক্তিযোদ্ধা ঘরে ফিরে আসেননি, কেননা তারা দেশ স্বাধীন করতে গিয়ে শহিদ হয়েছেন। কিন্তু মায়ের আকুতি সন্তান ফিরে আসবে। এই প্রতীক্ষায় দিন পার করেন। বস্তুত ‘একাত্তরের দিনগুলি’ দিনপঞ্জির আলোকে উদ্দীপকের গানটির বাস্তবতাই নির্দেশ করে।

 


Comments