সরকারি কর্মকর্তা সেজে কল্যাণ তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ করতেন তারা
সরকারি কর্মকর্তা সেজে কল্যাণ তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ ও বিকাশের কর্মকর্তা সেজে প্রবাসী কার্ড হ্যাক করে অর্থ আদায়ের ঘটনায় চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইড) সিরিয়াস ক্রাইম টিম। বৃহস্পতিবার রাতে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা এলাকা থেকে পৃথক ২টি মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।
তারা হলেন— মো. মোস্তাক হাওলাদার, আব্দুল হালিম ফরাজী, কপাল ওরফে মৃত্যুঞ্জয় মজুমদার, মো. সুজন শেখ, মো. তুহিন সরদার ও মো. সজিব আকশ। শুক্রবার বিষয়ে তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদ রহমান।
তিনি জানান, প্রতারকরা বিকাশের কর্মকর্তা সেজে প্রবাসী কার্ড মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করে বিকাশের বিটুবি নম্বর ক্লোন করে সাধারণ মানুষকে ফোন দেয়। এরপর তাদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মোবাইলের ওটিপি নম্বর নিয়ে কৌশলে বিকাশ এজেন্টের তিন লাখ উনিশ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ডিএমপির লালবাগ থানায় ভুক্তভোগী ২০২১ সালের ৭ আগস্ট মামলা করলে ওই মামলা তদন্ত করে সিআইডি। বৃহস্পতিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুরের ভাঙা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের ৫ সদস্যকে এই মামলায় গ্রেফতার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদ রহমান আরও জানান, আরেকটি ঘটনায় প্রতারক চক্রের সদস্যরা প্রথমে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের আর্থিক অনুদানপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের নামের তালিকা সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করে। পরে সরকারি কর্মকর্তা সেজে মোবাইলে কল দিয়ে সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের আর্থিক অনুদান গেয়েছে বলে জানায় ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগীদের তারা জানায়, অনুদান পেতে হলে এটিএম কার্ড থাকলে সেই কার্ডের নম্বর দিতে। সরল বিশ্বাসে এটিএম কার্ডের নম্বর তাদেরকে দিয়ে দিলে কৌশলে মোবাইল ফোনে প্রতারকদের পাঠানো ওটিপি নম্বর জেনে নেয়। এভাবে প্রতারকরা ১ লাখ ১৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এই ঘটনায় ২০২২ সালের ২৬ জুলাই রামপুরা থানায় মামলা করে ভুক্তভোগীরা। পরে মামলাটি তদন্ত শুরু করে সিআইডি। বৃহস্পতিবার ফরিদপুরের ভাঙা থেকে দুজনকে গ্রেফতার করে সিআইডি।

Join the conversation