04:28:18 am
Tuesday, September 01

রিজার্ভ চুরি: অর্থ উদ্ধারে বৈঠক হচ্ছে ফিলিপাইনে

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধার নিয়ে আলোচনায় বসছে বাংলাদেশ ও ফিলিপাইন। আলোচনায় চলমান মামলা নিয়েও আলোচনা হবে। আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে বাংলাদেশ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ফিলিপাইন গেছে। প্রতিনিধি দলে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী ব্যারিস্টার আজমালুল কিউসিসহ বিএফআইইউ ও সিআইডির দুজন কর্মকর্তা রয়েছেন। আর বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান মো. মাসুদ বিশ্বাস রোববার ফিলিপাইনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিনিধি দল ফিলিপাইনের আদালতে চলমান একটি মামলার সাক্ষ্য দেবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলার বিষয়ে বৈঠক করবে।  বৈঠকে প্রতিনিধি দলকে সহায়তা করতে ফিলিপাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত যোগ দিতে পারেন।  প্রতিনিধি দল আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবে। অবস্থানকালে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা করবে। পাশাপাশি ফিলিপাইনের মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠান ফিলরেমের সম্পত্তি ক্রোকের এক মামলায় সাক্ষ্য দেবে। 
গত ১৬ জানুয়ারি দেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউ জানায়, ফিলিপাইনের রিজল কর্মাশিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) সহযোগিতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়েছে। তাই রির্জাভ চুরির ঘটনায় আরসিবিসিসহ অভিযুক্ত ৬ জনের দায়ের করা মামলা খারিজ করে দিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে রায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইর্য়ক সুপ্রিম কোর্ট। ফলে রিজার্ভের অর্থ ফেরত পেতে বাংলাদেশের করা মামলা পরিচালনায় আর কোনো বাধা রইল না। 
বাংলাদেশের ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরি ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত হয়। এ বিবেচনায় ২০১৯ সালে ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোর্টে  আরসিবিসিসহ ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। পরে আরসিবিসিসহ ৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের মামলা বাতিল করার আবেদন করে। বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ায় মধ্যে দিয়ে ২০২০ সালের ২০ মার্চ ফেডারেল আদালত ফিলিপাইনের বিভিন্ন বিবাদীর দায়ের করা আবেদন খারিজ করে দেন। পরে মামলাটি ফেডারেল কোর্টের পরিবর্তে  স্টেট কোর্টে পরিচালনার র্নিদেশ দেয় বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে। 
২০২০ সালের মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক আবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সুপ্রিম কোটে আরসিবিসিসহ ফিলিপাইনের ২০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলা করার পর ৬ বিবাদী ফেডারেল কোর্টের মতো এই কোর্টেও মামলা বাতিলের আবেদন করে। বিবাদী পক্ষের আবেদনের বিষয়ে ২০২১ সালের জুলাই ও অক্টোবর মাসে শুনানি হয়। নিউইয়র্ক কাউন্টি সুপ্রিম কোর্ট ২০২০ সালে এপ্রিল মাসে মামলার আংশিক রায়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে অব্যাহতি দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক আপিল আবেদন করে। এখন তা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। 
জানা গেছে, স্টেট কোর্ট আরসিবিসি ও অন্য বিবাদীদের আগামী ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জবাব দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে মধ্যস্থতার র্নিদেশ দিয়েছেন। সেই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল আলোচনায় বসছে। 
বাংলাদেশের ইতিহাসে রিজার্ভ চুরির সবচেয়ে ঘটনা ঘটেছিল ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে। হ্যাকাররা বৈশ্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা সুইফটে ভুয়া অর্থ স্থানান্তরের আদেশ দিয়ে নিউইর্য়কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে গচ্ছিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করে। এ অর্থ ট্রান্সফার করা হয় ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংক। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের সহযোগিতায় মাত্র দেড় কোটি ডলার উদ্ধারে সমর্থ হয়েছে বাংলাদেশ।

Share this post

Join the conversation