শুধু ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে রয়েছে ২৪ হাজার কুকুর। ৬ হাজার কুকুরকে ‘বন্ধ্যাত্বকরণ টিকা’ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকায় প্রতিদিন কুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন ২ শতাধিক মানুষ। সিটি করপোরেশেন বলছে, কুকুর নিধনে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় ও এক্সট্রেলাইজেশন প্রক্রিয়া প্রয়োজনের তুলনায় (বন্ধ্যাত্বকরণ) সেন্টার অপ্রতুল থাকায় কুকুরের সংখ্যা বাড়ছেই।
রাজধানীর মিরপুর এলাকায় থাকেন শিল্পি আক্তার। কুকুরের কামড়ে আক্রন্ত হওয়া তার তৃতীয় শ্রেনীতে পড়ুয়া ছেলে আলামিনকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য সোমবার সকালে আসেন মহাখালীতে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে। তিনি আমাদের সময় ডটকম প্রতিনিধিকে বলেন, আমাদের এলাকায় অনেক কুকুর।
কুকুরের যন্ত্রণায় রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া যায় না। খুব ভয়ে থাকি। গতকাল রাতে বাসার সামনে একটি দোকান থেকে বিস্কুট নিয়ে আসার সময় কুকুরের আক্রমণের শিকার হয় সে।
কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত আরেক ছাত্র রনি এসেছেন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যে। কুকুরের আক্রমণ থেকে বেঁচে যাওয়া রাজু আহম্মেদ নামের এক ব্যবস্যায়ী বলেন, নাখালপাড়া শিয়া মাজার এলাকায় রাস্তার পাশে বসে থাকে কয়েকটি কুকুর।
রাস্তাদিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় কুকুরের আক্রমণের কবলে পড়তে হয়। এক-দু’বছরের মধ্যে সিটি করপোরেশন থেকে ‘বন্ধ্যাত্বকরণ টিকা’ কুকুরকে দেয়ার দৃশ্য আমার চোখে পড়েনি।
মহাখালী সাততলা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের ডাক্তার সাঈদ আহসান তৌহিদ বলেন, কুকুর ও অন্যান্য প্রাণীর আক্রমণে আক্রান্ত ২০০ রোগী প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসেন।
তবে নতুন পুরান মিলিয়ে ৮-৯ শত রোগী প্রতিদিন এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। এদের মধ্যে ৯৯ ভাগ কুকুরের কামড়ে, বাকি অন্যান্য প্রাণির কামড়ে আক্রান্ত রোগী। তাদের সরকারি ভাবে ভ্যাকসিন টিকা ফ্রি দেওয়া হয়ে থাকে।
এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন হেলথ ডিপার্টমেন্টর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকির হাসান বলেন, ‘অভয়ারণ্য’ নামের একটি এনজিও সিটি করপোরেশনের চুক্তি অনুযায়ী কুকুরগুলোকে ‘বন্ধ্যাত্বকরণ টিকা’ দিয়ে থাকে সংস্থাটি।
তিনি বলেন, প্রতিদিন ২০টি কুকুরকে ‘বন্ধ্যাত্বকরণ টিকা’ দেয়া হয়। বর্তমানে দুইটি সেন্টারের মাধ্যমে এই টিকা দেয়া হলেও তা বাড়িয়ে ৭ টি করার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্পাদনা : রাশিদ



Comments: