মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের শততম ওয়ানডে ম্যাচের দিনে ৩৬ বছর ধরে মাঠ পরিচর্যার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আবদুল মতিনকে শ্রদ্ধা জানাতে ভোলেননি মাশরাফি মুর্তজা
বাংলাদেশ নিজেদের শততম টেস্ট খেলেছে শ্রীলংকার মাটিতে। আবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের শততম ওয়ানডে ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলেছে সেই শ্রীলংকা।
সঠিক পরিকল্পনা থাকলে শততম টেস্ট ম্যাচ যেমন বাংলাদেশে আয়োজন করা সম্ভব ছিল, তেমনি কাল মিরপুর স্টেডিয়ামের ১০০তম ওয়ানডেতেও বাংলাদেশ খেলতে পারত। যখন ত্রিদেশীয় সিরিজের সূচি করা হয়েছিল তখন হয়তো নিজেদের হোম অব ক্রিকেটে শততম ওয়ানডের ব্যাপারটি জানতোই না বিসিবি।
পরে ভুলটা বুঝতে অবশ্য ভালো একটি উদ্যোগ নেয় বিসিবি। যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে মাঠ বেঁচে আছে সেই মাঠকর্মীদের কাল জানানো হল সম্মান। ৪৬ জন মাঠকর্মীকে দেয়া হয়েছে জ্যাকেট, যেখানে লেখা রয়েছে ‘শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ১০০তম ওয়ানডে’।
মিরপুরের মাইলফলকের দিনে মাঠকর্মী আবদুল মতিনকে ভোলেননি মাশরাফি মুর্তজা। তারা দু’জনেই যে ছিলেন ২০০৬ সালের ৮ ডিসেম্বর মিরপুরে অভিষেক ওয়ানডেতে। অনুশীলন শেষ হলে মাঠে এসে মাশরাফি সেই মতিনের পাশে বসে স্মৃতি রোমন্থন করেন।
৩৬ বছর ধরে মাঠ পরিচর্যার সঙ্গে জড়িয়ে আছেন মতিন। এই মানুষটিকে শ্রদ্ধা জানাতে ভোলেননি বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক।
তার সঙ্গে সেলফি তুলে মাশরাফি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘তামিম, সাকিব আরও অনেকের ১০০ পেরিয়ে আজ মতি ভাইয়ের ১০০ নট আউট যেন বেশি আনন্দের। অভিনন্দন মতি ভাই, ২০০-এর অপেক্ষায় আছে শেরেবাংলা...।’
এদিকে মতিন বলেন, ‘অনেকদিনই তো হয়ে গেল। তারপরও মনে হয় এইতো সেদিন শুরু করলাম। ভালো লাগছে, দেখি আর কতদিন থাকতে পারি।’
মিরপুরের কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা সাংবাদিক দেখলেই এড়িয়ে যান। কিন্তু বুধবারের বিশেষ উপলক্ষটা ছুঁয়ে গেছে তাকেও। মিরপুরের অধিকাংশ সাফল্য যে তার বানানো উইকেটেই এসেছে। কাল নিচ তলা থেকে লিফটে ওঠার সময় আগ
বাড়িয়েই কথা বলতে লাগলেন। কেমন লাগছে? গামিনি বলেন, ‘অবশ্যই ভালো। এই মাঠে হয়তো আরও অনেক অনেক ম্যাচ হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেটে এখন অনেক উন্নতি করেছে, আমিও এই উন্নতির পথে সঙ্গী হতে পেরে খুশি।’
কাল ম্যাচ শুরুর আগে সব মাঠকর্মীকে সমবেত করে ছবি তুলে রাখা হয়। একইদিনে ম্যাচ রেফারি হিসেবে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক খেলোয়াড় ডেভিড বুন। বিসিবির পক্ষ থেকে তাকে একটি স্মারক দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ কেন মিরপুরের শততম ওয়ানডেতে দর্শক হয়ে থাকল? এ নিয়ে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, ‘আসলে বিসিবির একটু তাড়াহুড়ো ছিল। কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল বলেই আগে থেকে ঠিক করতে পারিনি। এটা যে করা যেত না তা না। করতে পারলে ভালোই হতো।’
মাত্র ১১ বছরেই একটি মাঠে ১০০টি ওয়ানডে ম্যাচ হওয়া চিন্তার বিষয়। কারণ বাংলাদেশে আরও মাঠ থাকলেও অধিকাংশ খেলা মিরপুরেই অনুষ্ঠিত হয়।
নাজমুল হাসান বলেন, ‘এটা প্রমাণ করে না যে আমাদের মাঠ কম বলেই এত দ্রুত ১০০ ম্যাচ হয়ে গেল। তবে অবশ্যই এটা চিন্তার বিষয়। আন্তর্জাতিক ভেন্যুর জন্য মাঠের যে ধরনের বিশ্রাম লাগে এই মাঠ সেটা পাচ্ছে না।’ মিরপুর এবং চট্টগ্রাম ছাড়া বিসিবি অন্য কোথায় ম্যাচ আয়োজনই করতে চায় না।



Comments: