শাহজাদপুর উপজেলার বাচড়া গ্রামের বৃদ্ধা হালিমা বেওয়া (৬৫) বিধবা ভাতা তুলতে এসে জানতে পারলেন তিনি মারা গেছেন। শুধু তাই নয় তার নামে ইস্যু করা ভাতার কার্ডটি বাতিল করে উৎকোচের বিনিময়ে একই গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের স্ত্রী আলেয়া খাতুনের নামে ইস্যু করা হয়েছে।

এদিকে জীবিত মানুষকে মৃত দেখিয়ে তার ভাতার কার্ড উৎকোচের বিনিময়ে অন্যজনের নামে ইস্যু করার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের বাচড়া গ্রামের মৃত নবীর হোসেনের স্ত্রী হালিমা বেওয়ার নামে ২০০৮ সালে আগে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিধবা ভাতার কার্ড ইস্যু করা হয়। সেই থেকে তিনি ৩ মাস পরপর নিয়মিতভাবে ভাতার টাকা তুলে আসছিলেন।

এর ধারাবাহিকতায় গত মাসের শেষ সপ্তাহে হালিমা বেওয়া তার ভাতার টাকা তুলতে স্থানীয় সোনালী ব্যাংক শাখায় যান।

এ সময় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে জানায় ২০১৬ সালের ১৩ই এপ্রিল হালিমা বেওয়া মারা গেছে মর্মে পোরজনা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ২০১৭ সালের ১২ আগষ্ট তারিখে ইস্যুকৃত একটি মৃত্যু সনদপত্র দাখিল করা হয়েছে।


ফলে হালিমা বেওয়ার নামের ভাতার কার্ডটি বাতিল করে অন্য এক বিধবার নামে ইস্যু করা হয়েছে। এ সময় তিনি নিজেকে জীবিত দাবি করে বলেন, আমি মারা গেলে স্ব-শরীরে এখানে হাজির হলাম কিভাবে।

এক পর্যায়ে সে তার ভাতার কার্ডের ছবির সাথে তার চেহারার মিলিয়ে নিয়ে ভাতার টাকা দেয়ার দাবি করলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়।

পরদিন হালিমা বেওয়া সমাজসেবা অফিসে গেলে বিয়ষটি ফাঁস হয়ে যায়। হালিমা বেওয়া অভিযোগ করেন ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মুকুল ও স্থানীয় ওর্য়াড মেম্বার মজিবর রহমান যোগ সাজশে ৪ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে মৃত দেখিয়ে আলেয়া খাতুনের নামে বিধবা ভাতার কার্ড ইস্যু করেছে।

এ ব্যাপারে পোরজনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মুকুল উৎকোচ নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ইউপি সদস্য মজিবর তাকে ভুল তথ্য দিয়ে হালিমা বেওয়ার মৃত্যু সনদে স্বাক্ষর নিয়েছে। অন্যদিকে ইউপি সদস্য মজিবর রহমান বলেন, এটি কোন দোষের নয়, ভুলবশত হয়েছে পরবর্তীতে ঠিক করে দেয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) আব্দুল মোতালেবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি তার নজরে এসেছে।

আলেয়া খাতুনের নামের কার্ড বাতিল করে হালিমা বেওয়ার নামে বিধবা ভাতার কার্ড পুনরায় ইস্যু করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 


Comments: